ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইসলামে সালামের গুরুত্ব ও ফজিলত স্বৈরাচারের মতোই গুপ্তরা এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে: তারেক রহমান প্রস্টেটের সমস্যা কোন বয়সে কী কী লক্ষণ চিনে সতর্ক থাকতে হবে? বন্দর শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু অনলাইনে গেম খেলতে নিষেধ করায় ভারতে ৩ বোনের আত্মহত্যা নওগাঁয় এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্কুলশিক্ষার্থী নিহত চেলসিকে হারিয়ে কারাবাও কাপের ফাইনালে আর্সেনাল নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৯ অভিনয় থেকে রাজনীতি, লোকসভা ভোটে লড়াই! মার্কিন রণতরীর দিকে ‘এগিয়ে যেতেই’ ইরানের ড্রোনকে ধ্বংস করল আমেরিকা! দেশে পৌঁছেছে ৩ লাখ ২৬ হাজার প্রবাসীর ভোট পাকিস্তানে ব্যাপক সংঘর্ষে নিহত ২৫৫ আলবাসেতেকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বার্সেলোনা ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় ভয়াবহ ড্রোন হামলা রাশিয়ার কোচিং সেন্টার ও নোট-গাইড বন্ধে কঠোর বিধান রেখে শিক্ষা আইনের খসড়া প্রস্তুত ১৭১ মিলিয়ন ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাথে থাকলে সঙ্গী, পাশে না থাকলে জঙ্গি—এটাই কি রাজনীতির নীতি?: ঠাকুরগাঁওয়ে রাশেদ প্রধান বাংলাদেশি যুবককে গুলির ঘটনায় নিউইয়র্কের মেয়র মামদানির ‘অস্পষ্ট ব্যাখ্যা’ বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসীদের ভিসা স্থগিতাদেশে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

হালালভাবে উপার্জনের জন্য যে ১৩ নিয়ম মানবেন

  • আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৫ ০৩:০৩:৪৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৫ ০৩:০৩:৪৩ অপরাহ্ন
হালালভাবে উপার্জনের জন্য যে ১৩ নিয়ম মানবেন ছবি: সংগৃহীত
মুসলমানদের জন্য আয় রোজগার শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়,এক ধরনের ইবাদতের অংশ। উপার্জিত প্রতিটি টাকাই যেন হালাল হয়, ন্যায়-নীতি ও সততার সঙ্গে অর্জিত হয়, ইসলাম এই শিক্ষাই দেয়। বর্তমান পৃথিবীতে বর্তমান প্রতিযোগিতার বাজারে হালাল উপায়ে আয়ের প্রতিটি নীতি মেনে চলা সহজ নয়। অথচ হালাল আয়ের বরকত দুনিয়া ও পরকালে সাফল্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

হালাল রুজি মানে শুধু হারাম জিনিস এড়িয়ে চলা নয়; বরং সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখাই হালাল আয়ের মূল উদ্দেশ্য। নিচে আয়ের জন্য ১৩টি বাস্তবমুখী নিয়ম তুলে ধরা হলো—

১. ব্যবসায় নৈতিকতার সীমানা মেনে চলা: ইসলাম প্রতিটি লেনদেনে স্বচ্ছতা, ন্যায় ও সততার নির্দেশ দেয়। দাম বাড়িয়ে কারসাজি, অন্যায় প্রতিযোগিতা বা মানুষের দুর্বলতা কাজে লাগানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। চুক্তি স্পষ্ট রাখা ও নিয়মিত ব্যবসার নৈতিক মূল্যায়ন করা মুসলিম ব্যবসায়ীর কর্তব্য।

২. প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সেবা দেওয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘ইহসান’ বা শ্রেষ্ঠত্বের শিক্ষা দিয়েছেন। গ্রাহকের প্রত্যাশার চেয়ে উন্নত মানের পণ্য বা সময়মতো সেবা দেওয়াই ইসলামের ব্যবসায়িক আদর্শ। এতে শুধু বরকতই নয়, আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

৩. জুয়া ও জল্পনামূলক ব্যবসা থেকে দূরে থাকা: জুয়া বা ‘মাইসির’ এবং অনিশ্চয়তা বা ‘গারার’ ইসলামে নিষিদ্ধ। লটারিতে বিনিয়োগ, বেটিং বা অতি-ঝুঁকিপূর্ণ ট্রেডিংয়ের পরিবর্তে বাস্তব উৎপাদনমূলক খাতে বিনিয়োগ করাই উত্তম। যেমন—হালাল শেয়ারবাজার, সম্পদভিত্তিক ব্যবসা বা রিয়েল এস্টেট।

৪. হারাম পণ্য বা সেবার সঙ্গে যুক্ত না থাকা: মদ, শূকরজাত দ্রব্য কিংবা সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা কোনোভাবেই ইসলামে বৈধ নয়। উৎপাদন, পরিবহন বা প্রচারণা—কোনো ধাপেই এসবের সঙ্গে জড়িত থাকা চলবে না। এর বদলে হালাল ফুড, ইসলামী ফাইন্যান্স বা মার্জিত ফ্যাশন খাতকে বেছে নেওয়া যেতে পারে।

৫. সততা বজায় রাখা: সততা ইসলামী ব্যবসায়িক নীতির মেরুদণ্ড। পণ্যের মান সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা অতিরঞ্জন ইসলাম নিষিদ্ধ করেছে। প্রতিটি লেনদেনে সঠিক দলিল ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা উচিত।

৬. বেআইনি বা অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকা: কর ফাঁকি, চোরাচালান বা আইন ফাঁকি দেওয়ার মতো কাজ ধর্মীয় ও নাগরিক উভয় দৃষ্টিকোণেই অপরাধ। নিয়ম মেনে চললে ব্যবসার সুনাম ও স্থায়িত্ব দুই-ই বাড়ে।

৭. ঘুষ ও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকা: ঘুষ বা ‘রিশওয়া’ ইসলামে কঠোরভাবে হারাম। ন্যায়ের পরিবর্তে সুবিধা আদায়ে ঘুষ দেওয়া বা নেওয়া দুটোই অন্যায়। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ও জবাবদিহিতা গড়ে তুলতে হবে।

৮. বিজ্ঞাপনে বাস্তবতা বজায় রাখা: বাজারজাতকরণে কখনোই মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত দাবি করা যাবে না। বিজ্ঞাপনে যতটা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে, বাস্তবেও তা পূরণ করতে হবে। এতে বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি পায়।

৯. আলেমদের পরামর্শ নেওয়া: নতুন আর্থিক খাত, যেমন ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ফিনটেক বিষয়ে আলেমদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এতে সন্দেহজনক কোনো খাতে যুক্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা কমে।

১০. নৈতিক ভোক্তা হওয়া: শুধু উপার্জন নয়, খরচেও ইসলাম নৈতিকতা শেখায়। এমন প্রতিষ্ঠান থেকে কেনাকাটা করুন, যারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করে, পরিবেশের ক্ষতি করে না এবং হালাল নীতিতে চলে।

১১. পারিবারিক ও সামাজিক দায় পরিশোধ: পরিবারের খরচ, কর্মচারীর বেতন, কর ও যাকাত যথাসময়ে পরিশোধ করা ঈমানের অংশ। মজুরি বিলম্ব ইসলাম কঠোরভাবে নিন্দা করেছে।

১২. সবার প্রতি ন্যায় ও সমতা রক্ষা: চুক্তি, মুনাফা বা কর্মক্ষেত্র—সবক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে। কর্মচারী, গ্রাহক বা অংশীদার—সবার সঙ্গে সমান আচরণই ইসলামী শিক্ষার প্রতিফলন।

 ১৩. আয় থেকে দান করা: দান বা ‘সদকা’ ধন-সম্পদকে পবিত্র করে। দরিদ্র, এতিম, শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবায় নিয়মিত অনুদান দেওয়া ইসলামী শিক্ষা ও জীবনের অপরিহার্য অংশ।

হালাল রুজি শুধু বৈধ উপার্জন নয়, এটি আত্মিক শান্তি, নৈতিকতা ও সমাজকল্যাণের পথ। এসব নীতিতে অটল থেকে একজন মুসলমান দুনিয়ার সাফল্যের পাশাপাশি পরকালেও পুরস্কৃত হতে পারেন। হালাল আয়ের লক্ষ্য শুধু অর্থ উপার্জন নয়—এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহান প্রয়াস। সূত্র: হালাল টাইমস

নিউজটি আপডেট করেছেন : Admin News

কমেন্ট বক্স
নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৯

নগরীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ১৯